https://banglagolpokobita.com/wp-content/uploads/2018/06/unnamed-file.jpg

“অনামিকা, ব্যাগ গুছিয়ে নাও। টিকিট পেয়ে গেছি। আমরা ঈদ বাড়িতেই করতে পারবো বাবা মায়ের সাথে।”

“একটা কথা বলবো?”

“আরে কথা বলার সময় আছে? ব্যাগ গুছাও। সকালের ট্রেনে বাড়ি যেতে হবে। পরশু ঈদ। বাবা মা অপেক্ষা করে বসে আছে। জানো মায়ের জন্য খুব সুন্দর একটা শাড়ি নিয়েছি, বাবার জন্য পাঞ্জাবি।”

“নিলয়, মা কল করেছিলো সকালে। এবার ঈদটা মায়ের সাথে কাটানো যায় না?”

“হ্যোয়াট? তুমি চাইছো আমি বাবা মায়ের সাথে ঈদ না করে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ঈদ করি? তোমার মত স্ত্রীদের কারণে আমরা সন্তানরা মা-বাবার দোয়া থেকে বঞ্চিত হই। এত ফালতু স্বার্থপর মানসিকতা কেন তোমাদের?”

“নিলয়, বলছিলাম, আমি তাহলে একাই যাই মায়ের কাছে। তুমি বাবা-মায়ের সাথে ঈদটা কাটাও।

“ছিঃ, বাড়ির বউ বাড়ি না গিয়ে বাপের বাড়ি ঈদ করতে যাবে। মানুষ কী বলবে? তোমার কি কোনো দায়িত্ব নেই আমার বাবা মায়ের প্রতি? দু’কলম পড়ালেখা শিখেই এত অহংকার? এবার তোমার প্রথম ঈদ বিয়ের পরে। আর তুমি? তোমাকে এমন ভাবি নি অনামিকা!”

“নিলয়, মা খুব অসুস্থ!”

“তোমার বাবা তো আছেন। ওনাকে বল খেয়াল রাখতে। টাকা লাগলে বলতে বলো। যেহেতু ওনাদের ছেলে নেই, দায়িত্ব তো আছে কিছু আমাদের।”

“টাকা দিলেই দায়িত্ব শেষ? আমার কি উচিত না মাকে দেখতে যাওয়া?”

“দেখো অনামিকা, তুমি এখন অন্য বাড়ির বউ, তোমার দায়িত্ব আছে এ বাড়ির প্রতি। বাপের বাড়ির প্রতি টান কমাও। এসব বাদ দাও। ব্যাগ গুছাও!”

*
“হ্যালো মা!”

“কাঁদছিস কেন তুই?”

“আমি আসতে পারছি না মা। আমাকে ক্ষমা করো।”

“শ্বশুরবাড়ি যাবি? এটাই তো উচিত। বিয়ের পর তোর প্রথম ঈদ। যা মা! কাঁদিস না। খুশী মনে যা। এখন ওটাই তোর বাড়ি। ঘরের ভালো বউ হয়ে উঠবি।”

“তুমি নিজের খেয়াল রেখো, মা।”

“আচ্ছা মা, তুইও নিজের যত্ন নিস।”

“মা! তুমি কাঁদছো?”

“না রে মা। তুই কাঁদছিস কেন?”

“কাঁদছি না মা। রাখি।”

*
পরের বছরের ঈদ। দেয়ালে মায়ের ছবি। অনামিকা তাকিয়ে আছে শূন্য চোখে।
“জানো মা? আমি ঘরের ভালো বউ হয়েছি। তোমার ভালো মেয়ে হতে পারি নি। আমায় ক্ষমা করো।”

SHARE

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.