jibon https://banglagolpokobita.com/wp-content/uploads/2015/08/bampw-black-and-white-boy-couple-cute-fashion-favim.jpg

বাসর ঘরে ঢুকেই সদ্য বিয়ে করা বৌকে জুয়া খেলতে দেখার দৃশ্য খুবই বিরল। আর আমিই হয়তো সেই দৃশ্য লাইভ দেখা একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। জুয়ার নাম “তিন পাত্তি গোল্ড” মোবাইল অ্যাপ। বৌ এর নাম…… উমমম….। শিট বৌয়ের নামই তো জানা হলো না।

আমাদের বিয়েটা হঠাৎ করেই। অনেকটা স্টার জলসার হঠাৎ বজ্রপাতের মত। আব্বা পাত্রী দেখিয়ে জিজ্ঞেস করললেন,

“তোর পছন্দ হয়েছে?”

এসব প্রশ্নের উত্তর হুট করে দেওয়া যায় না। প্রথমে লজ্জা পেতে হয়, তারপর ভেবেচিন্তে বলতে হয়।আমি ভেবেচিন্তে বলার আগেই পাশ থেকে এক প্রতিবেশী বলে উঠলো,

“দেখো না ছেলে চুপ করে আছে, নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ। আলহামদুলিল্লাহ বলো, ছেলে রাজি”

আব্বাও তার কথায় সায় দিয়ে জোরে জোরে তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বলে মেয়ের হাতে আংটি পড়ানোর হুকুম দিলেন।

আমি রক্তচক্ষু নিয়ে প্রতিবেশীর দিকে তাঁকালাম। ইচ্ছে করছিলো তাকে শূণ্যে তুলে তিনটা আছাড় দিয়ে বুঝিয়ে দিতে,

” নীরবতা ঝড়ের পূর্বাভাষ ও হয়”

সে সব এখন শুধুই ইতিহাস। বর্তমান অবস্থা তিন কবুলের ঘাট পেরিয়ে বৌ আমার মনযোগ দিয়ে তিনপাত্তি খেলছে। 
যেখানে আলতো হাতে তার ঘোমটা তুলে এতো বছরের জমানো কথা, অনুভূতি, ভবিষ্যৎ প্লান ব্যক্ত করার কথা। সেখানে আমি গুটি গুটি পায়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

– কি করছেন?

কোন জবাব এলো না। এই মেয়ে বোধহয় কানে কম শুনে। শেষ পর্যন্ত বয়রা জুয়াড়িই ছিলো কপালে?

বৌ আমার দিকে না ফিরেই রাগী কন্ঠে বললো,

– কি বললেন আপনি? আমি বয়রা?

– না মানে….. সরি আমি আসলে….

– একদম কথা বলবেন না, এমনিতেই লস যাচ্ছে। তার উপর আপনি এসব বলছেন?

– আচ্ছা আর বলবো না।

– হুম। আর শুনুন, আপনি মাঝখানে কোলবালিশ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। আমি জানালার পাশেই ঘুমাবো, এখানে নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায়।

– কোলবালিশ তো তুলেই রেখেছি। ভেবছিলাম ….

– ভুলেও কোন ভাবনাচিন্তা করবেন না বলে দিলাম। কোলবালিশ নামিয়ে নিন জলদি।

– জ্বী আচ্ছা। কিন্তু আমার তো জানালার পাশে ছাড়া ঘুম হয় না।

– কেন ঘুম হয় না? আপনি কি বাচ্চা নাকি? নাকি এখনো মধ্যরাতে ওয়াশরুমে না গিয়ে জানালা দিয়েই……

– ছি: ছি: না। আই হেইট জানাল। আপনিই জানালার পাশে ঘুমান।

– আচ্ছা চা খাবেন?

যাক মেয়েটা এতোক্ষনে একটা পজিটিভ কথা বলেছে। বাসর রাতে বৌ এর হাতের চায়ের কথা ভাবতেই নিজেকে স্বর্গীয় মনে হচ্ছে। যদিও সবাই দুধ, শরবতেই অভ্যস্ত। আমি হাসিমুখে সায় জানালাম।

– জ্বী, এক কাপ চা হলে মন্দ হয় না।

– তাহলে দুইকাপই বানিয়ে আনুন। আমারও খুব চা খেতে ইচ্ছে করছে।

এঁ!!! কি বলে এই মেয়ে। ওর কথা শুনে আমার মাথা ঘুরাইতেছে, এতোটা হয়তো প্রেগন্যান্সিতেও মেয়েদের ঘুরায় না।

– বাসর রাতে বরকে কেউ চা বানানোর অর্ডার দেয়?

– আমি দেই। সমস্যা? যান বানাই নিয়া আসেন।

অগত্যা ব্রান্ড নিউ বৌ এর আদেশ পালনে রান্নাঘরে হাঁটা দিলাম। বাংলা সিনেমার পরিচালকগন স্বামীর আদেশ, বাবার আদেশ, মায়ের আদেশ নামে সিনেমা তৈরী করেছেন। কি অদ্ভুত! বৌ এর আদেশ এর কথা তাদের মাথায়ই আসে নাই।

ভাবছি সিনেমাটা আমিই বানাবো। সিনেমার নাম “বৌ এর আদেশ” ব্রেকেটে লেখা থাকবে “এক কাপ চা”। এটা সিনেমার নিকনেম। মানুষের পাশাপাশি সিনেমার ডাকনাম থাকাও অতিব জরুরী।

তবে মুভি বানানোর পূর্বে এখন চা বানাতে হবে। আর চায়ের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে “প্রতিশোধের আগুন” (মরিচ গুঁড়া)। ব্রেকেটে লেখা “মরিচ গুঁড়া” কিন্তু মোটেও প্রতিশোধের আগুনের নিকনেম না। ইহা একটি উপকরন মাত্র।

কিছুক্ষনণের মধ্যেই দু-কাপ চা হাতে বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম, যার এক কাপে অস্বাভাবিক মরিচের উপস্থিতি বিরাজমান। এই মেয়ের এতো বড় সাহস! আমার বাড়িতে এসে আমাকেই চা বানাতে বলে!!!
এবার বুঝুক মজা, ঝালযুক্ত চায়ের মজা।

রুমে ঢুকতেই চমকে উঠলাম। রুমের চেহারা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত। একটু আগেও যেই মেয়েটা সেলফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, সে এখন ঘোমটা টেনে লজ্জাবতীর মত জুবুথুবু হয়ে বসে আছে। এলোমেলো বাসর যেন নতুন রঙে সজ্জিত হয়েছে।

আমি অবাক দৃষ্টিতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি কি স্বপ্ন দেখছি? নাকি এর আগেরটা স্বপ্ন ছিলো?

মেয়েটা আস্তে আস্তে ঘোমটা সরিয়ে মার্জিত ভাষায় সালাম দিলো,

– আসসালামু আলাইকুম। 
– এঁ! 
– কেউ সালাম দিলে সালামের উত্তর নিতে হয়। আপনাকে কেউ একথা বলে নি? 
– ওয়ালাইকুম আস সালাম। 
– চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন কেন? আর একটু বড় করলে তো খুলে পড়ে যাবে।

মেয়েটা শব্দ করে হেসে উঠলো, অদ্ভুত মায়াবী সে হাসি। মায়াবতীদের হাসি বোধহয় এমনি হয়। ওর হাসির সাথে কুঁচকে যাওয়া চোখ যেন নেশা ধরিয়ে দেয়। আমি মাতালের মতই আড়ষ্ট হাতে মরিচ গুঁড়া মেশানো চায়ের কাপটা এগিয়ে দিলাম। মেয়েটা আবার বলে উঠলো,

– সরি! আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য। আমি আসলে দেখতে চাচ্ছিলাম, আপনি কেমন মানুষ? যার সাথে বাকী জীবন কাটাবো তার এটুকু পরীক্ষা তো নিতেই পারি তাই না?

– এসব পরীক্ষা ছিলো?

– হ্যাঁ এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জান্নাতেও বর হিসেবে আমি আপনাকেই চাই।

আমি দ্রুত চায়ের কাপটা পাল্টে নিলাম। আর যাই হোক, এই মেয়েকে ঝালযুক্ত চা খাওয়ানো যায় না। ওকে শুধু ভালোবাসা যায়। ভালোবেসে ভালোবাসায় বেঁধে রাখা যায়। ওকে আজীবন ভালোবাসার জন্যই বেঁচে থাকা যায়।

আর এই ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখার জন্য “ঝালযুক্ত চা” ও খাওয়া যায়। আমি নির্বিকারভাবে ঝালযুক্ত চায়ের প্রতিটা ফোঁটা গলধঃগরন করে নিলাম।

নাহ! কোন সমস্যা হচ্ছে না। শুধু মাথা ঘুরছে, এতোটা হয়তো প্রেগনেন্সিতেও মেয়েদের ঘুরে না। তবে খুশির খবর একটাই,

“মোটেও বমি বমি লাগছে না”।

SHARE

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.