https://banglagolpokobita.com/wp-content/uploads/2018/06/hqdefault.jpg

প্রিয় নীলা,

তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো কোনো এক সুন্দর মেঘলা বিকেলে।প্রচণ্ড বাতাসে এলোমেলো উড়ন্ত চুলগুলোতে কি অসম্ভব সুন্দরই না লাগছিল তোমাকে!কালো ফ্রেমের চশমায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো তোমার সৌন্দর্যকে যেন অারও বাড়িয়ে দিয়েছিলো।এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ এর জন্মই হয় মানুষকে মায়ার জালে আবদ্ধ করতে।তুমি কি প্রথম দিনই আমার সমস্ত মায়া কেড়ে নিয়েছিলে?

.

.

তোমার কি মনে অাছে প্রথম কবে তোমার সাথে অামার কথা হয়েছিলো?ক্যাম্পাসের ক্যাফিটেরিয়ায় যখন তুমি সবার সাথে অাড্ডা দিচ্ছিলে..হঠাৎ তোমার হাতের ধাক্কায় অামার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে যায়।সেই থেকে পরিচয়।তারপর অসংখ্যবার তোমার সাথে দেখা হয়েছে,কথা হয়েছে।তোমার মায়ার জালে কতটা গভীরভাবেই না অাচ্ছন্ন করেছিলে অামায়!

.

.

তোমার নিশ্চয়ই মনে নেই,প্রথম কবে অামরা ঘুরতে বের হয়েছিলাম।সেই সময়গুলোতে তুমি অনর্গল বকবক করতে অার অামি চুপচাপ শুনতাম।তুমি যখন রাগ করে বলতে অামি কেন তোমার কথার উত্তর দেইনা,অামি তখন বলতে পারিনি..অামার সমস্ত ভাষা তোমার দেখলে তোমার বিশাল অাকাশের মেঘেদের ওপারে হারিয়ে যায়!! বর্ণমালা উড়িয়ে সেই মেঘেদের দল সমস্ত অাকাশে অামার অভিমানী কবিতা,না বলা গল্পগুলোর প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে দেয়।তুমি কি সেই প্রতিধ্বনি শুনতে পেতে?হয়তো পেতে।শুনতে পেতে বলেই হয়তো,অামি প্রতিবার যখন ঐ কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে গীটারে সুর তুলতাম,সেই সুর তোমার মনের তানপুরায় বেজে উঠতো।অামি স্পষ্ট সেই সুরের প্রতিধ্বনি শুনতে পেতাম..যেই প্রতিধ্বনি দীর্ঘশ্বাস হয়ে বের হতো।তোমার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যেতো অার গাল বেয়ে নেমে অাসতো অভিমানী স্রোত।অামি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম…নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েই তোমার জীবনের উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হবো।সেই উপন্যাসের প্রতিটা লাইন ঐ নিয়ন অালোতে শহরের প্রতিটা দেয়ালে টানিয়ে দেব।যেই লাইনগুলো ভুলের স্রোতে হারিয়ে যাবে না…বরং ফিনকছটা জোছনায় অনুভূতিগুলোকে রাঙ্গিয়ে দিয়ে সমস্ত পৃথিবীকে অামাদের অস্তীত্বের জানান দিবে..

.

.

সে রাতে যখন সারারাত বসে কাঁপাকাঁপা হাতে বুকপকেটে চিঠি নিয়ে পরেরদিন ক্যাম্পাসে তোমার খোঁজে গিয়েছিলাম..তখন জানতে পারলাম তুমি হঠাৎ সব সার্টিফিকেট তুলে নিয়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছো।বিশ্বাস করো,অামার একটুও ধাক্কা লাগেনি।অামি বিশ্বাস করতাম…প্রচন্ড রকম বিশ্বাস করতাম…“তোমার নিষ্পাপ চোখদুটো কখনো বেঈমানী করতে জানে না”।

.

.

তুমি বলেছিলে অামি গীটার হাতে একদিন রাজ্যে শাসন করবো।তুমি নাকি সেই রাজ্যের রাজকন্যা হবে।তোমার কথাগুলো দিয়ে ডিঙ্গি নৌকো বানিয়ে,সেই নৌকোয় সমুদ্র পাড়ি দেয়ার অসম্ভব স্বপ্ন দেখেছিলাম।বাস্তবতার কঠিন বেড়াজাল অামার স্বপ্নগুলোকে সত্যি হতে দেয়নি।সেইদিন সকালে বাবা যখন রিপোর্ট কার্ড হাতে বাসায় ফিরে যখন একা একা ডুকরে ডুকরে বাচ্চাদের মতো কাঁদছিলো…তখনই  অামার মনে সন্দেহের তীর ঢুকে গিয়েছিলো।রাতে যখন লুকিয়ে লুকিয়ে রিপোর্ট কার্ড দেখে জানতে পারলাম অামার ব্লাড ক্যান্সার ততক্ষণে দেরী হয়ে গিয়েছে…বড্ড বেশী দেরী হয়ে গিয়েছে।বুঝতে অার বাকি রইলো না, অামার অার কখনো অার ফিনিকছটা জোছনায় জোছনাবিলাস করা হবে না,টিনের চালের নিচে অার বৃষ্টি-বিলাস করা হবে না,এলোমেলো চুলে অার কখনো গীটারে সুর তোলা হবে না।

.

.

শেষবারের মতো তোমার সাথে দেখা করতে ভীষণ ইচ্ছে করছিলো।ইচ্ছে করছিলো শেষবারের মতো তোমার সাথে রূপকথা সাজাতে।অনেক কষ্টে তোমার নাম্বার জোগাড় করেছিলাম।অনেকবার ফোন দেয়ার পর যখন তুমি ফোন রিসিভ করলে..অসম্ভব রকম এক ভালোলাগা ছুঁয়ে গিয়েছিলো অামায়।মুক্ত পাখিদের মতো ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করছিলো,হারিয়ে যাওয়া গীটারের সুরে অাবারও প্রাণ ফিরিয়ে মাতাল হতে ইচ্ছে করছিলো..ভীষণ ইচ্ছে করছিলো।কিন্তু,তুমি অামার কন্ঠ শোনার সাথে সাথেই ফোনটা কেটে দিলে।হাজারবার ফোন দিয়েও তোমাকে অার পাওয়া গেলো না। পরে শুনেছি তুমি নাকি নাম্বার পাল্টে ফেলেছো!

.

.

হাসপাতালের বেডে অামি যখন অপেক্ষার শেষ প্রহরগুলো গুনছিলাম,তুমি তখন সবে জানতে পারলে অামার সময় ফুরিয়ে অাসছে।মোবাইলের স্ক্রিনে তোমার সেই পুরনো নাম্বারটা ভেসে উঠলো…বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো তোমার সাথে।কলপনার চোখে তোমার অনুশোচনার স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাচ্ছিলাম..ততক্ষণে যে বেলা শেষ হয়ে গিয়েছে!অামি যখন বললাম…“তুমি কি অামাকে শেষবারের মতো দেখতে অাসবে?অনেকদিন তোমার পাশে বসে গান গাই না…শেষ একটাবার অামার গানের সুর হবে?” তুমি বলেছিলে…“অবশ্যই অাসবো।অাগামীকালই অামি তোমার ইচ্ছে পূরন করবো…অাসার সময় তোমার পছন্দের ইলিশ-পোলাও নিয়ে এসে খায়িয়ে দিব।একটুও চিন্তা করো না”।অামি সেইদিন দুই হাত তুলে সৃষ্টকর্তার কাছে অাকুতি জানিয়েছিলাম..“হে সৃষ্টিকর্তা!অামাকে অার শুধু একটা দিন বাঁচতে দাও…অামার অাজ বাঁচতে ইচ্ছে করছে..

ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করছে”।অনেকরাত পরে ওই রাতে একটু শান্তিতে ঘুমিয়েছিলাম।

.

.

অামার মৃত্যুর গানও তোমার হৃদয়ের পাথর গলাতে পারেনি।পরের

SHARE

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.